Saturday, October 8, 2011

চট্টগ্রামে সাড়ে ২৮ হাজার কেজি ইলিশ জব্দ

চট্টগ্রাম, অক্টোবর ০৭

- ইলিশ ধরা বন্ধের প্রথম রাতে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূল থেকে সাড়ে ২৮ হাজার কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুতুবদিয়া ও আনোয়ারা সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপকূলরক্ষী বাহিনী (কোস্টগার্ড) ও মৎস্য অধিদপ্তর এসব ইলিশ জব্দ করে। এ সময় ১২টি মাছ ধরার নৌকাও আটক করা হয়। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আগের দিন বরিশাল থেকে প্রায় ৪০ মণ ইলিশ আটক করে এতিম ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ইলিশ রক্ষায় বৃহস্পতিবার থেকে ১১ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কামান্ডার জসিম উজ জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কুতুবদিয়া চ্যানেল এবং আনোয়ারা সংলগ্ন সমুদ্র থেকে ওই সাড়ে ২৮ হাজার কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে কিছু এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে। বাকি মাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

তিনি জানান, রহমতপুর ও বাংলাবাজার ঘাট এলাকা থেকে ১০টি বিন্দি জাল এবং কক্সবাজারের কলাতলি ও হিমছড়ি এলাকা থেকে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল আটক করা হয়েছে। এসব জালের দাম আনুমানিক সাত লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এদিকে শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো নগরীর ষোলশহরে কর্ণফুলী মার্কেটে অভিযান চালায় মৎস্য অধিদপ্তর। এ সময় ইলিশ বিক্রির অপরাধে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বৃহস্পতিবার নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারে একই অপরাধে চার হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


জেলা মৎস কর্মকর্তা প্রভাতী দে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রজনন মৌসুম হিসাব করে ১১ দিনের জন্য ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ইলিশ ধরা ও বিক্রির পাশাপাশি সরবরাহ ও মজুদও নিষিদ্ধ।

এ আদেশ অমান্য করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং অভিযুক্তদের এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা গুণতে হবে বলে জানান তিনি।

তবে দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে।

চীনে গাড়ি-বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩৫

বেইজিং, অক্টোবর ০৮

- চীনের উত্তরাঞ্চলে একটি মহাসড়কে প্রাইভেট কার ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছে।

নিহতদের অধিকাংশই ছাত্র বলে জানা গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম সিনহুয়া জানায়, শ্যানডং প্রদেশে থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার শুক্রবার বিকেলে বেইজিংয়ের কাছে তিয়ানজিন শহরে একটি বাসকে সজোরে আঘাত করলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সংঘর্ষে বাসটি উল্টে যায়। এসময় বাসে ৫৫ জন যাত্রী ছিল। এদের অধিকাংশই কলেজ ছাত্র। সাত দিনের জাতীয় ছুটি শেষে তারা কলেজে ফিরছিল।

দুর্ঘটনার পর তিয়ানজিংয়ের জাতীয় মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত সাতদিনের জাতীয় ছুটিতে তিয়ানজিংয়ের ঘটনাসহ তিনটি বড় সড়ক দুর্ঘটনায় চীনে ৫৬ জন নিহত হয়।

জীবন্ত কবর দেওয়া দু'দিনের শিশু জীবিত উদ্ধার

ঢাকা, অক্টোবর ০৮

- দু'দিনের এক শিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের বোধনা গ্রামে। এক কৃষকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া শিশুটি এখন সুস্থ্য আছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই কৃষক যখন তার ক্ষেতে কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ করেই শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস অনুসন্ধান করে তিনি দেখতে পান একটি ছোট শিশুর মাথা মাটি থেকে বের হয়ে আছে। শিশুটিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে বুঝতে পারেন তিনি। শিশুটি কোনভাবে তার মাথা মাটি ফুঁড়ে বের করতে পেরেছিল।

উদ্ধার করার পর শিশুটিকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধারণা, উদ্ধার করার সময় শিশুটি দু'দিন বয়সী ছিলো।

মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী শ্রীমতি অর্চনা চিতনিস হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান। তিনি শিশুটিকে ঠিকমতো পরিচর্যা করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। শিশুটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে।

শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে খুঁজে পাওয়া গেলেও শিশুটিকে আর তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ঠিক কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০০৯ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মধ্যপ্রদেশে অবৈধ গর্ভপাত এবং কন্যাশিশু হত্যার ঘটনা দেশটির সর্বোচ্চ।

জয় আমাদেরই, দাবি তালেবানের

কাবুল, অক্টোবর ৮

- আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয় নিজেদের বলেই দাবি করেছে তালেবান। পাশাপাশি বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে না যাওয়া পর্যন্ত নিজেদের লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করেছে এই কট্টর ইসলামি মৌলবাদী গোষ্ঠীটি।

শুক্রবার আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা অভিযানের ১০ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা একথা জানায়।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে (বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র) সন্ত্রাসী হামলার পর সেবছরের ৭ অক্টোবর মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে।

টুইন টাওয়ার হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আল কায়েদাকে দায়ী করে থাকে। আফগানিস্তানে তৎকালীন তালেবান সরকার আল কায়েদাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র এই সেনা অভিযান শুরু করে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ (জুনিয়র)।

ইংরেজি ভাষায় দেওয়া ওই বিবৃতিতে তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, "এ দেশে চিরকাল থাকতে আগ্রহীদের নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করতে অস্ত্র ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গত এক দশক ধরে তালেবান তাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।"

ই-মেইলে পাঠানো বিবৃতিতে আরো বলা হয়, "হামলাকারীদের বিরুদ্ধে গর্বের সঙ্গে আফগান জনগণ ১০ বছর ধরে জিহাদ চালানোর পর আমাদের আবারো অবশ্যই এটা বলা উচিত যে, জয় আমাদের সঙ্গেই রয়েছে।"

"অসততা, মতভেদ, ভন্ডামি ও অন্যান্য খারাপ বিষয় এড়িয়ে আমরা যদি আল্লাহ'র পথে থাকি তাহলে আমাদের শত্র"দের সম্পূর্ণভাবে এ দেশ ত্যাগে বাধ্য করা যাবে।"

আফগানিস্তানে লড়াইরত ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, এ দিনটির স্মরণে কোনো কিছু করার পরিকল্পনা তাদের নেই।

প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও তাকে সমর্থনকারী পশ্চিমা দেশগুলো ২০১৪ সালের মধ্যে বিদেশি সেনাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো অবশ্য আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য তহবিল ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।

প্রথমদিকে দেশটিতে বিদেশি সেনাদেরকে স্বাগত জানানো হলেও তাদের উপস্থিতিতে বেশ কিছু হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘ এই লড়াইয়ে ১১ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আরো কয়েক হাজার জনগণ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দেশটিতে বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতির বিরুদ্ধে খানিক জনমতও গড়ে উঠেছে।

অবশ্য স¤প্রতি একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর তালেবান শাসন ফিরে আসতে পারে বলে আফগান নারীরা আশঙ্কায় ভুগছে।

সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ

ঢাকা, অক্টোবর ০8- এক মিশরীয়কে হত্যার সাজা হিসেবে সৌদি আরবে আট বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ হয়েছে।

রিয়াদে শুক্রবার প্রকাশ্যেই তাদের দণ্ড কার্যকর করা হয় বলে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তারা হলেন- মামুন আবদুল মেনন, ফারুক জামাল, সুমন মিয়া, মোহাম্মদ সুমন, শফিক আল-ইসলাম, মাসুদ শামসুল হক, আবু হুসেইন আহমেদ এবং মতিয়ার আর রহমান। এরা সবাই শ্রমিক।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৭ সালের এপ্রিলে একটি গুদামে ডাকাতি এবং ওই গুদামের মিশরীয় নিরাপত্তাকর্মী হুসেইন সাইদ মোহাম্মেদ আবদুল খালেককে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলো।

একই ঘটনায় আরো তিন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কট্টর ইসলামী দেশ সৌদি আরবে এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড সাধারণত প্রকাশ্যেই কার্যকর হয়। তবে আট জনের একসঙ্গে শিরশ্ছেদ ঘটনা অস্বাভাবিক বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার উপ-পরিচালক হাসিবা হাজ শারাউই বলেন, "সৌদি আরবের বিচার প্রক্রিয়া মোটেও আন্তর্জাতিক মানের নয়। যেখানে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে একটি ধারা তৈরি হচ্ছে, সেখানে সৌদি কর্তৃপক্ষ শিরশ্চেদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।"

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, আট বাংলাদেশিসহ এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, যা গত বছরের দ্বিগুণেরও বেশি। এ বছর যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২১ জনই বিদেশি।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বেশিরভাগ বিদেশিই সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। তাদের বেশির ভাগের পক্ষে কোনো আইনজীবী থাকে না। তারা আরবিতে আদালতের কার্যক্রমও বুঝতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাও তাদের জানানো হয় না। খুব কম সময়ই তারা আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পান।

সৌদি আরবের দুই কোটি ৭০ লাখ জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশই বিদেশি, বিশেষ করে এশিয়ার।

'প্রস্তাবিত সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে আন্দোলন'

ঢাকা, অক্টোবর ০৮

- প্রস্তাবিত সম্প্রচার নীতিমালার বাস্তবায়ন হলে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)।

শনিবার সেগুনবাগিচার বীরোত্তম খাজা নাজিমুদ্দিন মিলনায়তনে দলটির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, "প্রচলিত আইনের মধ্যেই অন্যায় ও অসঙ্গত প্রচার-প্রচারণা নিয়ন্ত্রণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে তাই নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক আইনের কোনোই প্রয়োজন নেই।

"প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। এ ধরনের সম্প্রচার নীতি দেশের রাজনীতি বিকাশের অন্তরায়।"

"আবার বলা হচ্ছে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া যাবে না। এই যে 'বিভ্রান্তিকর তথ্য' এটা নির্ধারণ করবে কে?"প্রশ্ন রাখেন তিনি।

গণমাধ্যমের জন্য একটি সম্প্রচার নীতিমালা স¤প্রতি তৈরি করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিতে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রাথমিক খসড়া আনলাইনে প্রকাশের সুপারিশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্র্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বও নীতিমালার প্রাথমিক খসড়া নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও অনলাইনে সবার মতামত নিয়েই এটি চূড়ান্ত করা হবে।

আপাতত কিছুদিনের জন্য সরকার নীতিমালা প্রণয়নের কাজ স্থগিত করলেও পুনরায় তা চালু করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে- এ কথা জানিয়ে কোরেশী বলেন, "এটা হলে আমরা সরাসরি সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবো।"

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অতীত ভূমিকা গৌরবোজ্জল নয় মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, "এক্ষেত্রে ১৯৭৪ সালে নিউজপ্রিন্ট কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স ও ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার সময় কয়েকটি সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা ছাড়া দেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করা যেতে পারে।"

জনগণ ও জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংবাদপ্রত্রের স্বাধীনতা খর্ব হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই: কামরুল

ঢাকা, অক্টোবর ০৮

- বিরোধী দল দাবি জানিয়ে এলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবির আড়ালে বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চাইছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আইন প্রতিমন্ত্রী শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় বলেন, "পৃথিবীর সব দেশেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হয়। কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার নজির নেই। উচ্চ আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। তাই এ নিয়ে আলোচনার আর কোনো সুযোগ নেই।"

'সম্মিলিত তরুণ পেশাজীবী পরিষদ' আয়োজিত 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট' শীর্ষক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর বর্তমান বিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, যা নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি থেকে সরে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার পরামর্শ দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কামরুল বলেন, "আগামী ফেব্র"য়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। সংসদে আসুন, কীভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করি।"

বিএনপির রোড মার্চ কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত এবং গ্রেনেড হামলাকারীদের বাঁচাতেই বিরোধী দল রোড মার্চের কর্মসূচি দিয়েছে। কর্মসূচির নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকারের আন্তরিকতা তুলে ধরে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, "একে একে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হবে। প্রয়োজনে একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এ সরকারের আমলেই বিচার শেষ করা হবে।"

সভায় পটুয়াখালী-৩ আসনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক ব্যারিস্টার জাকির আহম্মদ, আজকের সূর্যোদয় পত্রিকার সম্পাদক খন্দকার মোজাম্মেল হক বক্তব্য রাখেন।

সেকাল-একাল'র মিলনমেলা ঢাবির বাংলা বিভাগে

ঢাকা, অক্টোবর ০৮ - প্রতিষ্ঠার ৯০ বছর পূর্তি উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ।

এ উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে জড়ো হতে থাকেন বিভাগের শত শত সাবেক শিক্ষার্থী। তাদের অভ্যর্থনা জানায় বিভাগের বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা অ্যালামনাই আয়োজিত এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন ঘোষণা করে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাংলা বিভাগ সামনে থেকে অংশ নিয়েছে, নেতৃত্ব নিয়েছে।

"নাগরিকদের দেশপ্রেম ও ভাষার প্রেম ব্যতীত কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। আর বাংলা বিভাগ শিক্ষার্থীদের মাঝে এটাই ছড়িয়ে দেয়," বলেন তিনি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের একটি বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে অধ্যাপক আরেফিন বলেন, "সম্পর্কই হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র সত্য। এ ধরনের অনুষ্ঠানে সেটিই দেখা যায়। সেই সম্পর্কই দৃঢ় হয়।"

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগের চেয়ারম্যান সিদ্দিকা মাহমুদ বলেন, "বিভাগের ৯০ বছরের এই মিলন মেলা দেখে আমাদের মন ভরে গেছে। আমরা আশাতীত সাড়া পেয়েছি।"

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার সময় সংস্কৃতির সঙ্গে থাকলেও ১৯৩৭ সালে আলাদা নামে আত্মপ্রকাশ করে বাংলা বিভাগ। ১৯৫০ সালে আবার ফিরে আসে আগের অবস্থানে। ১৯৭০ সালে বাংলা থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সংস্কৃত ও পালি বিভাগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সাবেক আট শিক্ষার্থীকে সম্মাননা জানানো হয়। এদের মধ্যে অধ্যাপক আশরাফ হোসেন সিদ্দিকী (১৯৫০), রওশন আরা রহমান (১৯৫৩), অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম (১৯৫৪), অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম (১৯৫৪) উপাচার্যের হাত থেকে সম্মাননাপত্র নেন।

সম্মাননা পাওয়া অন্য চার শিক্ষার্থী অধ্যাপক কাজী দীন মুহম্মদ (১৯৪৯), অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম (১৯৫০), অধ্যাপক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (১৯৫১) এবং অধ্যাপক আশরাফ ফারুকী (১৯৫৪) অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি।

'ফিরে যাওয়া, ফিরে আসা'

অনুষ্ঠানে সম্মাননা নিয়ে রওশন আরা রহমান বলেন, "আজকের এই মিলন মেলায় বর্তমান শিক্ষার্থীরা যেভাবে আনন্দিত, উৎফুল্ল। আমার মধ্যে তার কোনো কমতি নেই।

"আজ এই ক্যাম্পাসে ফিরে এসে আমি যেন ফিরে গেছি আমার সময়ে। এটি জীবনের একটি দুর্লভ সময়, এ সময় বারবার জীবনে ফিরে আসবে না।"

বিভাগের শতবর্ষ উদযাপনের সঙ্গী না-ও হতে পারেন- এ শঙ্কা থেকে বর্ষীয়ান এই সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, "আজকের এই দিনকেই আমি শতবর্ষ ধরে নিয়ে উদযাপন করে গেলাম।"

রওশন আরা ৫২'র ২১ ফেব্র"য়ারির অগ্নিগর্ভ সে সময়ের স্মৃতিচারণও করেন।

অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম (১৯৫৪) বলেন, "আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে গিয়েছি সেকালে। এ কালের সঙ্গে তার বিরাট তফাত। তখন আজকের রোকেয়া হল ছিলো না। এখানে ছিলো উইমেন স্টুডেন্ট রেসিডেন্ট নামে একটি বাড়ি। সকালে গেট খোলার পর আমরা বের হতাম, আবার ঢুকতে হতো সন্ধ্যার আগেই।"

তখন ছাত্র-ছাত্রী একসঙ্গে থাকার নিয়ম ছিলো না জানিয়ে তিনি বলেন, "কমনরুম আর ক্লাসের বাইরে শিক্ষকের জন্য অপেক্ষা করতাম। ঘোমটা দিয়ে শিক্ষককের সঙ্গে ক্লাসে ঢুকে প্রথম বেঞ্চে বসতাম। ক্লাস শেষে আবার শিক্ষকের সঙ্গেই বের হয়ে যেতাম।"

৯০ বছর পূর্তির এ অনুষ্ঠানে অনেককেই দেখা গেলে পুরনো বন্ধুদের খুঁজে বেড়ানে। কর্মজীবনে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকলেও তারা এক হয়ে গিয়েছিলেন এ মিলনমেলায়।

এক জনকে পাওয়া গেল, যিনি ঘুরে ঘুরে সবাইকে কেবল ব্যাচ জিজ্ঞাসা করে যাচ্ছেন। সঙ্গে জানতে চাইছেন, ৬১ ব্যাচের কাউকে দেখেছেন কি-না।

সিরাজগঞ্জ থেকে বাহাদুর আলী মিয়া নামে বাংলা বিভাগের এই সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, "দীর্ঘকাল ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় শিক্ষকতা করেছি। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম, কাউকে না কাউকে পাবো। কিন্তু কাউকেই পাচ্ছি না।"

তবে সবার অবস্থা বাহাদুর আলীর মতো নয়, পুরনো বন্ধুদের খুঁজে পেয়েছেন প্রায় সবাই।

বিভাগে সম্মান শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আওয়াল ফয়সাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সেই ৫০ দশক থেকে প্রায় সব দশকের শিক্ষার্থীরাই আজ এসেছেন। তাদের সবাইকে পাওয়ার বিরল সৌভাগ্য আমি অর্জন করেছি।

"আজ যেন আমাদের কোনো ব্যবধান নেই। এ বিভাগে পড়েছি বা পড়ছি, এটাই একমাত্র পরিচয়। এমনকি বয়সের ব্যবধানও আছে বলে মনে হচ্ছে না।"

১৯৮৫-৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাট্যশিল্পী শিরিন বকুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আজ প্রকৃতিও যেন বাংলা বিভাগের সঙ্গে মিতালী পাতিয়েছে।"

রোদ-বৃষ্টি-মেঘলা আবহাওয়ার এই দিনে তিনি বলেন, "সাহিত্য অধ্যয়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমরা প্রকৃতিকেও বোঝার চেষ্টা করেছি, কাজ করেছি।"

তিনি জানান, ১ ফাল্গুন বসন্ত উৎসব বাংলা বিভাগই প্রথম উদযাপন করে, যা এখন চারুকলা অনুষদ বর্ধিত কলেবরে করছে।

সিলেটে 'নিখোঁজ' চিকিৎসক ফিরেছেন

সিলেট, অক্টোবর ০৮ - সিলেটে বেসরকারি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের 'নিখোঁজ' চিকিৎসক ফিরেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রশিদ আহমেদ নামে ওই চিকিৎসক নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল ইউনিটের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট (সিএ)।

বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতাল থেকে দুই যুবক তুলে নিয়ে যায় বলে দক্ষিণ সুরমা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. আফজাল শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, "রশিদ আজ টেলিফোন করে জানিয়েছে, সে ফিরেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নিয়েছিলো বলে সে জানিয়েছে।"

ডা. রশিদকে কোন বাহিনী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেছেন, ডা. রশিদ এখন বিশ্রামে রয়েছেন। তিনি পরে কাজে যোগ দেবেন।

রশিদের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।

এদিকে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ভারতীয় দুই চিকিৎসক এবং দুই শিক্ষার্থী শনিবার দুপুর পর্যন্ত ফেরেনি।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে বলে কলেজের অধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নাজমুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া খবরে ওই চার ভারতীয়কে শিক্ষার্থী বলা হলেও পরে জানা যায়, তাদের দুজন শিক্ষানবীশ চিকিৎসক এবং অন্য দুজন ছাত্র।

চিকিৎসক দুজন হলেন- তোসাদ্দেক রশিদ ও আমির আমিন রেশমী। ছাত্ররা হলেন- তৌসিফ আহমদ ও দানেশ বাট।

তারা সবাই ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে তিন জনকে নিয়ে যাওয়া হয়। দানেশ বাটকে নেওয়া হয় শুক্রবার দুপুরে।

অধ্যক্ষ নাজমুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বলেন, র‌্যাব পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকের এক দল লোক কলেজ হোস্টেল থেকে তাদের নিয়ে যায়।

রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এ কথা বললেও পুলিশ বা র‌্যাব বিষয়টি স্বীকার করেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোয়াহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।"

অবশ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, নয়া দিল্লি হাইকোর্টে বোমাহামলার ঘটনায় বাংলাদেশের ইউনানী মেডিকেলে লেখাপড়া করা এক কাশ্মীরি যুবককে গ্রেপ্তারের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্টের ফটকে বোমাহামলায় ১৫ জন নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিন ওই হামলা চালায় বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের ধারণা।

ভারতের দৈনিক টাইমস অফ ইন্ডিয়া শুক্রবার তাদের অনলাইন সংস্করণে জানায়, বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সে দেশের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (এনআইএ) গোয়েন্দারা ওয়াসিম আহমেদ নামের এক কাশ্মীরি এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ইউনানি চিকিৎসায় বাংলাদেশে পড়াশোনা করেন।

ওয়াসিমকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এনআইএ কর্মকর্তারা কিছু বলেননি। তবে তারা মনে করছেন, ওই হামলার পরিকল্পনায় জানতে ওয়াসিম একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।

সিলেটে চার ভারতীয় শিক্ষার্থীসহ ৫ জন 'নিখোঁজ'

Sat, Oct 8th, 2011 1:35 am BdST
Dial 2000 from your GP mobile for latest news  
সিলেট, অক্টোবর ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সিলেটের দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চার ভারতীয় ছাত্র এবং এক চিকিৎসকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাদের চার শিক্ষার্থীকে নিয়ে গেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যদিও পুলিশ বা র‌্যাব বিষয়টি স্বীকার করেনি। অন্যদিকে এক চিকিৎসকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অপহরণের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল (অব.) নাজমুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জানান, বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকের একদল লোক কলেজ হোস্টেল থেকে মোঃ আশরাফ, আমির, তসির নামে তিন ভারতীয় ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুরে নিয়ে যায় আরো একজনকে।

চতুর্থ ছাত্রের নাম জানাতে না পারলেও তিনি বলেন, এরা সবাই ভারতের জম্মু-কাশ্মীর এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. আফজাল জানান, অজ্ঞাত পরিচয় দুজন লোক বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে এসে মেডিকেল ইউনিটের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট (সিএ) রশিদ আহমদকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা জানান, রশিদের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হাসপাতালের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ডা. রশিদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিতে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। তাই প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

দক্ষিণ সুরমার ওসি আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

কারা এদের কোথায় নিয়ে গেছে সে বিষয়ে সিলেটের র‌্যাব বা পুলিশ কর্তৃপক্ষের কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোয়াহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।"

অবশ্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, দিল্লী হাইকোর্টে বোমা হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের ইউনানী মেডিকেলে লেখাপড়া করা এক কাশ্মীরি যুবককে গ্রেপ্তারের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্টের ফটকে বোমাহামলায় ১৫ জন নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিন ওই হামলা চালায় বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের ধারণা।

ভারতের দৈনিক টাইমস অফ ইন্ডিয়া শুক্রবার তাদের অনলাইন সংস্করণে জানায়, বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সে দেশের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (এনআইএ) গোয়েন্দারা ওয়াসিম আহমেদ নামের এক কাশ্মীরি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ইউনানি চিকিৎসায় বাংলাদেশে পড়াশোনা করেন।

ওয়াসিমকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এনআইএ কর্মকর্তারা কিছু বলেননি। তবে তারা মনে করছেন, ওই হামলার পরিকল্পনায় জানতে ওয়াসিম একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।